শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২১ অপরাহ্ন
জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে তিন আন্দোলনকারী ছাত্রীকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাত্রলীগের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কর্মসূচি পালনে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ৭০-৮০জন নেতাকর্মী সেখানে এসে অবস্থান নিলে আতঙ্কে আন্দোলনকারীরা সরে যান।
আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি পালনে ‘নিষেধ’ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে এসেছিল বিক্ষোভ মিছিলের কথা জানাতে। কিন্তু আমরা তাদের নিষেধ করি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছাত্রী বের করার ঘটনায় সারা দেশে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাবিতে বিকাল ৫টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি শুরুর আগে বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঙ্গে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক মাসুদ মোন্নাফসহ চারজনকে কথা বলতে দেখা গেছে।
এসময় আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ করতে ছাত্রলীগ নিষেধ করে বলে জানা যায়। নিষেধ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হলে ছাত্রলীগ মহড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৪টায় গ্রন্থাগারের সামনে বিক্ষোভের জন্য জড়ো হয় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী। রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে মহড়া বের করেন।
মহড়া নিয়ে যখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গ্রন্থাগারের দিকে আসছিল, তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে যায়। পরে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করেন।
এ সময় ছাত্রলীগের বেশকিছু নেতাকর্মী পাশ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ‘উসকানিমূলক’ নানা কথা বলতে থাকেন। ছাত্রলীগের কয়েকজন তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা সব কই গেল?’, ‘তোমরা কি আন্দোলন করবে না’ পরে যে কোনো ধরনের সংঘাত এড়ানোর জন্যই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল না করেই কর্মসূচি স্থগিত করেন।
জানতে চাইলে আন্দোলনের রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন, ‘আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আপনাদের জানানো হবে।’ তবে, কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, সরকার কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু একটা পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা তাদের আজকে আন্দোলন করতে নিষেধ করেছি।
ক্যাম্পাসে মহড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক শোডাউন দিয়েছি। তাদের বাধা দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।
Leave a Reply